জোটের প্রার্থীকে সমর্থন না জানিয়ে জামায়াত প্রার্থীকে এনসিপির সমর্থন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন আহমদ বিলাল। তবে জোটের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন না জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটি।৮ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে শহরের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মাঠপর্যায়ের জনমত পর্যালোচনা করেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা দাবি করেন, জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নান নির্বাচনী এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং তার অবস্থান শক্তিশালী। জোটের বৃহত্তর স্বার্থ এবং সরকার গঠনে বিজয় নিশ্চিত করতেই তারা একযোগে কাজ করবেন বলে জানান নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক খালেদ হাসান, সদস্য সচিব রুহুল আমীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর সেক্রেটারি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা।এদিকে মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আহমদ বিলাল। জোটের প্রধান শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর অবরোধের কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে বিভক্তি ও তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে জোট প্রার্থী আহমদ বিলাল বলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীকের প্রার্থী তিনিই। জোটের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা এবং প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোয় তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, শুরুতে জামায়াত প্রার্থী দাবি করেছিলেন যে নেতাকর্মীদের অবরোধের কারণে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। কিন্তু পরে জোটের নির্দেশ অমান্য করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।