• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৩রা চৈত্র ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:১০:২৩ (17-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সংবাদ ছবি

‘পাকিস্তান ও ইসরায়েলের পার্থক্য করা কঠিন’, আফগান ক্রিকেটারদের ক্ষোভ

স্পোর্টস ডেস্ক: কাবুলে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের প্রকাশ করেছেন রাশিদ খান, মোহাম্মাদ নাবি, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, নাভিন-উল-হাকের মতো ক্রিকেটাররা।আফগান সরকারের পক্ষ থেক দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় নিহতের সংখ্যঅ অন্তত চারশ। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শহরটিতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এর ফলে রমজান মাসের রোজার পর বাইরে থাকা স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর মধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে, মাদকাশক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রটির সমস্ত অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।আফগান ক্রিকেটাররা আগেও নানা সময়ে তাদের দেশে পাকিস্তানের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবারও তারা সরব হয়েছেন। আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় তারকা রাশিদ খানের চোখে, পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধ করেছে।“কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সবশেষ খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুলবশত, বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ। মানুষের জীবনকে এতটা নগন্য করে তোলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত জঘন্য কাজ এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”“এটি কেবল বিভেদ এবং ঘৃণাকেই ইন্ধন জোগাবে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলিকে এই সাম্প্রতিক নৃশংসতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান জনগণের সাথে আছি। আমরা সেরে উঠব এবং জাতি হিসেবে উঠে দাঁড়াব। সবসময়ই তা করি আমরা।”আফগান ক্রিকেটের আরেক বড় তারকা মোহাম্মাদ নাবি লিখেছেন, সুস্থ জীবনের আশায় যারা এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এসেছিল, তাদেরই জীবনই কেড়ে নেওয়া হলো।“আজ রাতে কাবুলের একটি হাসপাতালে আশার আলো নিভে গেল। সুস্থ ও নতুন জীবনের আশায় যে সব তরুণকে তাদের পরিবার এখানে রেখেছে, বোমার আঘাতে তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মা এবং আত্মীয়রা হাসপাতালের দরজার বাইরে একত্রিত হয়েছে, প্রত্যেকেই তাদের ছেলের নাম ধরে এবং খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।”“এরা সেই মানুষ, যাদের পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চেয়েছিলো, কিন্তু ২৮ রমজানের রাতে পাকিস্তানের সামরিক শাসনামলে তাদের জীবন শেষ হয়ে গেল।”আফগানিস্তানের আরেক শীর্ষ ক্রিকেটার অলরাউন্ডার আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের প্রতিক্রিয়াও ছিল এমনই।“আজ রাতে আমরা কাবুলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। এর কিছুক্ষণ পরেই, পাকিস্তানি বিমান হামলায় আক্রান্ত একটি হাসপাতাল থেকে আগুনের শিখা আকাশের দিকে উঠতে দেখা যায়। রমজান মাসে, মানুষ রোজা ভাঙার পর, নিরীহদের এমন প্রাণহানি ঘটল এবং আরও অনেকে আহত হলেন। আজ রাতে শোকাহত প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। কাবুল শোকে মুহ্যমান। আমরা ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করি।”ছোট্ট কথায় তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন আফগান পেসার নাভিন-উল-হাক।“ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের শাসনামলের মধ্যে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।”পাকিস্তানের সরকার অবশ্য চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে নিশানা করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, কাবুল এবং আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামাতে’ হামলা চালিয়েছে তারা।