• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ৬ই চৈত্র ১৪৩২ রাত ০৯:১৫:৩১ (20-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সাড়ে চার কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক

সাড়ে চার কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও কালিয়াকৈর উপজেলার সীমানা ঘেঁষে বয়ে গেছে তুরাগ নদী। নদীর দুই তীরজুড়ে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরনো ঐতিহ্যবাহী বাজার সাকাশ্বর।আশপাশের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, কৃষিপণ্য বিক্রি বিভিন্ন কাজে এই বাজারে আসা–যাওয়া করে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে কয়েক বছর আগে তুরাগ নদীর ওপর সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়।কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও সেতুর এক পাশে এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে কোটি টাকার এই সেতুটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সেতু থাকলেও রাস্তা না থাকায় দুই পাড়ের মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের মাস্টারবাড়ি–খালিশাবর্তা–সাকাশ্বর সড়কের তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নাম রাখা হয়েছে ‘মন্ত্রী সামসুল হক সেতু’। কিন্তু সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে মাটি ফেলে ও বাঁশের সহায়তায় অস্থায়ী পথ তৈরি করে কোনোভাবে সেতুতে ওঠানামা করছেন।সেতুর দু’পাশে ওঠা–নামার পথ অত্যন্ত খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য চলাচল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। অনেক সময় অন্যের সাহায্য ছাড়া তারা সেতুতে উঠতেই পারেন না। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেতুর আশপাশে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দা রফিক জানান, বহুদিন ধরে তারা একটি নিরাপদ সেতুর স্বপ্ন দেখেছেন। এক বৃদ্ধ করিম বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “কত আশা ছিল মরার আগে ব্রিজটা দেইখা যামু। ব্রিজ তো দেখলাম, কিন্তু রাস্তা দেখবার ভাগ্য হয়তো আর হইব না।”আরেকজন স্থানীয় আলাল বলেন, “আগে নৌকা দিয়া পারাপার করতাম, তাতে তেমন সমস্যা ছিল না। এখন ব্রিজ হইছে ঠিকই, কিন্তু রাস্তা না থাকায় সুবিধা তো দূরের কথা—উল্টো আমাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।”এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে সেতুটি কার্যকর হবে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে বলে তারা আশা করছেন।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতা থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।