• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৬শে বৈশাখ ১৪৩৩ সকাল ১১:০৮:০১ (09-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

ড. জুথির মৃত্যু ও 'জাপানিজ এনকেফেলাইটিস' ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা গেল

৯ মে ২০২৬ সকাল ১০:০০:৩২

ড. জুথির মৃত্যু ও 'জাপানিজ এনকেফেলাইটিস' ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা গেল
“ছবি: সংগৃহীত”

ডেস্ক রিপোর্ট: বান্দরবান ভ্রমণ শেষে জ্বর, খিচুনি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিন কোমায় থাকার পর মারা গেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) শিক্ষক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। মশাবাহিত বিরল ‘জাপানিজ এনকেফেলাইটিস’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। ৮ মে শুক্রবার এমন আশঙ্কার কথা জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। খবর সমকালের।

আক্রান্ত হওয়ার পর ড. জুথি তীব্র জ্বর, খিঁচুনি এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি তিন দিন কোমায় থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এমআরআই রিপোর্টে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি ও স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা গেছে, যা জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।  

Ad
Ad

জানা গেছে, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস ভাইরাস মূলত কিউলেক্স মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসটি মূলত বন্য পাখি এবং শূকরের মধ্যে থাকে। মশা যখন সংক্রমিত প্রাণীকে কামড়ায়, তখন তাদের দেহে ভাইরাসটি প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে সেই মশা মানুষকে কামড়ালে ভাইরাসটি মানুষের রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

Ad

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো লক্ষণ থাকে না বা খুব সামান্য জ্বর থাকে। তবে প্রতি ২৫০ জনের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত হানে।  

লক্ষণ: উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, তীব্র খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যায়ে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে। গুরুতর আক্রান্তদের মধ্যে ২০-৩০ শতাংশ মারা যেতে পারেন এবং যারা বেঁচে থাকেন তাদের ৩০-৫০ শতাংশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।  

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চল এবং বনাঞ্চল কিউলেক্স মশার প্রজননের জন্য উপযোগী স্থান। গ্রামীণ এলাকা, ধান ক্ষেত এবং যেখানে শূকর বা বন্য পাখির আধিক্য রয়েছে, সেখানে এই ভাইরাসের ঝুঁকি বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, যেহেতু ড. জুথি দুই সপ্তাহ আগে বান্দরবানে গিয়েছিলেন, তাই সেখানেই কোনো সংক্রমিত মশা তাকে কামড় দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

বাংলাদেশে জাপানিজ এনকেফেলাইটিস একদম নতুন নয়, তবে এর প্রাদুর্ভাব সচরাচর দেখা যায় না। ১৯৭৭ সালে ময়মনসিংহের একটি গ্রামীণ এলাকায় প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যেখানে ২২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৭ জন মারা যান। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহীতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এনকেফেলাইটিস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ৬ শতাংশ জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন।  

বর্তমান অবস্থা: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগ) ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেখানে এর ঝুঁকি বেশি থাকলেও এখন পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও এর উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রতিরোধ ও সতর্কতা: এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়:

১. টিকা গ্রহণ: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।

২. মশা থেকে সুরক্ষা: ফুল হাতা জামাকাপড় পরা, মশার কয়েল বা মশারি ব্যবহার করা এবং রিপেলেন্ট ক্রিম ব্যবহার করা।

৩. সচেতনতা: গোধূলি থেকে ভোরবেলা পর্যন্ত কিউলেক্স মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই এই সময়ে বাইরে থাকার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।  

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ


খুলনায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা
খুলনায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা
৯ মে ২০২৬ সকাল ১০:২৮:৫৫










Follow Us