লালমনিরহাট প্রতিনিধি: তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় নদীপাড়ের জনপদে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোবে এবং নদীভাঙন, বন্যা ও খরার দুঃসহ চক্র থেকে মুক্তি মিলবে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন চরাঞ্চলে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেককে তিস্তা নদীর বালুচরে দাঁড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া একজন প্রতিনিধি সংসদে যাওয়ায় এবার তাদের দীর্ঘদিনের দাবি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার পাবে।


নবনির্বাচিত এমপি দুলু জেলা বিএনপির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ)। তিনি লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী আবু তাহের পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২৪৪ ভোট। ব্যবধান ৮৩ হাজার ৪০৭।
চর কালমাটি এলাকার কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, দুলু দীর্ঘদিন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষকে সংগঠিত করেছেন এবং সেই নেতৃত্বই তাকে বিজয়ী করেছে। একই এলাকার কৃষক সুলতান আহমেদ জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকায় মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে।
চর রাজপুরের অনিল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, তিস্তা বাঁচলে কৃষি-পরিবেশ সবই বাঁচবে। নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ও দিলবর হোসেনসহ স্থানীয়রা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং দারিদ্র্য কমবে।
নবনির্বাচিত এমপি দুলু বলেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান রংপুরের জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ইশতেহারেও বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বলেন, সরকার গঠন করায় এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available