বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এর প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৮৫ দশমিক ২১ ডলারে নেমে এসেছে, যা প্রায় চার সপ্তাহের সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও কমেছে ২ শতাংশ।বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। এতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো অ-সুদভিত্তিক বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।এদিকে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পাশাপাশি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।অন্যদিকে, চীনে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। মার্চ মাসে দেশটি ৪৭.৮৬৬ মেট্রিক টন স্বর্ণ আমদানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় বেশি।অন্যান্য ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩.৩ শতাংশ কমেছে, পাশাপাশি প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে।বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করা হয়।এর আগে ২৮ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রুপার দামও ক্যারেটভেদে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।