• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৪শে মাঘ ১৪৩২ বিকাল ০৫:২৩:২৯ (06-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি আনোয়ারুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি আনোয়ারুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই একমাত্র বাকি কাজ।বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কিছু আসনে এখনো ব্যালট পেপার পাঠানো না হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এতে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১৬টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি সব আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পেপার পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে এবং আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনী আংশিকভাবে মোতায়েন শুরু করেছে।নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। তারা মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও একই সময়সীমায় দায়িত্ব পালন করবেন।ইসি সূত্র জানায়, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।