আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জার্মানি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কাতারের দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যান্সেলর মের্জ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল সফরকালে তাঁর প্রতিটি বৈঠকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে জার্মানি কূটনৈতিক সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।


৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
তবে আলোচনার আগেই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে কূটনীতি ছাড়াও একাধিক বিকল্প রয়েছে। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনায় শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এর জবাবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক বিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচির বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো বিষয় আলোচনায় এলে পুরো প্রক্রিয়াই ভেস্তে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীসহ হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় সমঝোতা ব্যর্থ হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, গত জুনেও ওমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি হামলা ও পরবর্তী সময়ে মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনায় সে আলোচনা ভেস্তে যায়।
আলোচনা শুরুর আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। কাতার ও মিশর আলোচনার পরিধি সম্প্রসারণ এবং দুই পক্ষকে একটি অভিন্ন ভিত্তিতে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available