• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ১১:০০:২৮ (29-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

৪৫ মাস পর রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

২৯ জুন ২০২৬ রাত ০৯:২৩:৪৪

৪৫ মাস পর রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক: টানা ৪৫ মাস পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার ধারাবাহিকতায় ২৯ জুন সোমবার দিন শেষে মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে, ১ জুন মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক মাসেই মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে মোট রিজার্ভের পুরো অর্থ ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় এবং অন্যান্য আর্থিক বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের একটি হিসাব সংরক্ষণ করে। এতে আইএমএফের বিশেষ ড্রইং অধিকার (এসডিআর), ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নিষ্পত্তির জন্য সংরক্ষিত অর্থসহ কয়েকটি খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এ হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিলে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতাকে নিরাপদ রিজার্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও অন্যান্য কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা বাড়ে এবং প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন আমদানির ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।  

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক করা হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়তে শুরু করে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধারের ধারা জোরালো হয়।

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তা ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফেরার ফলে রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরেছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ









হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
২৯ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:১৬:১১


Follow Us