• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২৮শে বৈশাখ ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৫৬:৫২ (11-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
সংবাদ ছবি

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট: ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।আজ ১১ মে সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রায়ে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি মত দিয়েছেন আদালত। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল নজরদারি ছাড়া এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয়।রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন।আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রায়ে এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন করেন।আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।