• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৯শে মাঘ ১৪৩২ দুপুর ০২:৫৩:০৩ (01-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
শ্রীপুরে স্কুলের কক্ষ দখল করে মাজারের সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক

শ্রীপুরে স্কুলের কক্ষ দখল করে মাজারের সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক

গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় রাতের আঁধারে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষ দখল করে মাজারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চন্নাপাড়া বকুলতলা এলাকায় অবস্থিত ‘মেধা বিকাশ নিকেতন’ স্কুলে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। দখলদাররা স্কুলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানা গেছে।​ভুক্তভোগী স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল লোক অতর্কিতে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং তিনটি শ্রেণিকক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। রাতেই কক্ষগুলোর সামনে একটি মাজারের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শুধু দখলই নয়, শনিবার সকালে দখলকৃত জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে পিকনিকের আয়োজন করে দখলকারীরা।​প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত। অভিযুক্ত আতাবুল্লাহ ভাড়াটিয়া লোকবল নিয়ে এসে রাতের আঁধারে আমাদের তিনটি কক্ষ দখল করেছে। তারা স্কুলের সিসি ক্যামেরা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। এমনকি সকালে তারা সেখানে পিকনিক করে আনন্দ-উল্লাস করেছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।"অভিযোগ অস্বীকার করে আতাবুল্লাহ বলেন, "আমরা কোনো কক্ষ দখল বা ভাঙচুর করিনি। এটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আমরা জমির মালিকানা পেয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব জমিতেই অবস্থান করছি।"​শনিবার সকালে স্কুলে এসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনদুপুরে দখলকৃত জায়গায় আনন্দ-উল্লাস চলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার থেকে নিয়মিত ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঠদান শুরু করা নিয়ে কর্তৃপক্ষ গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে।​এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও একটি চলমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে মাজারের সাইনবোর্ড লাগানো আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা। তারা দ্রুত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।