নতুন নেতৃত্বে ইসরায়েলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-এর নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ৯ মার্চ সোমবার ভোরে হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই মোজতবা খামেনির শাসনামলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রথম বড় সামরিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রথম প্রকাশ করে। প্রচারের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও জনসমক্ষে দেখানো হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ছবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে লেখা দেখা যায়, ‘আপনার সেবায় প্রস্তুত, সাইয়্যিদ মোজতবা’। এটি নতুন নেতার প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য এবং ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে।তেহরানের এই আকস্মিক হামলা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় আরও আগ্রাসী সামরিক নীতি গ্রহণ করতে পারে।মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বজায় রাখতে এবং ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে নতুন নেতা সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক নেতারা পরিস্থিতি মনিটর করছেন।ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি, তবে জেরুজালেম ও তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, মোজতবা খামেনির এই পদক্ষেপ কেবল শুরু, এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।পশ্চিমা দেশগুলো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন নেতার এই পদক্ষেপকে উদযাপন করা হচ্ছে।সূত্র: বিবিসি