• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৮ই বৈশাখ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:১৮:১৬ (21-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর ধারাবাহিক হেনস্তা ও কথিত মব সংস্কৃতির প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর।ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ও সোমবার পরপর দুই দিনে তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন। রোববার রাতে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত দুজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তা করা হয়। পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে একদল ব্যক্তি ঘিরে অপদস্থ করে।চিকিৎসকদের অভিযোগ, এসব ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই তারা কর্মবিরতির ডাক দেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বুধবার সকাল ৯টায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেও তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন না। রোগীর স্বজনদের অসদাচরণ ও হেনস্তার কারণে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত, দোষীদের শাস্তি এবং কর্মস্থলে সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। দৈনন্দিন সেবার একটি বড় অংশ ইন্টার্নদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অন্য চিকিৎসকদের। ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফলোআপ কার্যক্রমেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।ভোগান্তিতে পড়া রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এক রোগীর স্বজন জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই রোগীদের সবচেয়ে বেশি সময় দিয়ে সেবা দেন, তাদের অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা, অন্যদিকে রোগীদের সেবা ব্যাহত হওয়ায় তৈরি হয়েছে দ্বৈত সংকট। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।