• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বিকাল ০৩:২০:২৬ (14-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গ্রেফতার নিয়ে নতুন বিতর্ক

রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গ্রেফতার নিয়ে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে গ্রেফতারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এসব ঘটনা দেশটিতে মুসলিমদের প্রতি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনগত অভিযোগ রয়েছে।বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রশাসনিক অবাধ্যতা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।আটকদের মধ্যে রয়েছেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল, মর্দোভিয়ার মুফতি রয়াল আসেনভ এবং কয়েকজন আঞ্চলিক মুসলিম নেতা। কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে। রাশিয়া ২০০৩ সালে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেফতার অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম)-এর বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।বিতর্ক আরও তীব্র হয় ডিইউএমের শীর্ষ নেতা দামির মুখেতদিনভকে ঘিরে। একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা বা শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয় এবং পরে তাকে জরিমানা করা হয়। সমালোচকদের মতে, বিষয়টি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ইতিহাস-চর্চা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।এদিকে ডিইউএমের প্রধান মুফতি রাভিল গাইনুতদিন সংগঠনটির বিরুদ্ধে চরমপন্থা, বিদেশি প্রভাব বা উগ্রবাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব দাবি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভাজন তৈরির চেষ্টা এবং ডিইউএম আইন মেনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।বিশ্লেষকদের মতে, গ্রেফতারগুলোর সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর আগে গাইনুতদিন আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতবদ্ধ নামাজ সীমিত করার প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন আইন মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে আরও সীমাবদ্ধ করতে পারে।রাশিয়ায় দুই কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করে, যা ইউরোপের বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে ক্রেমলিন মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপগুলো তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে নিয়ে এসেছে।সূত্র: বিবিসি