জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আগামী জুলাই ও আগস্টজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।৫ জুলাই রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।ইশরাক হোসেন জানান, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।তিনি বলেন, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই দিনের কর্মসূচি ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হবে। পরে আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া শহিদ ও আহত পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।তিনি আরও জানান, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ওই দিন সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহিদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে আরেকটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক। এ ঘটনাকে স্মরণ করে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ শিরোনামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রদর্শনী চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনে অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।তিনি জানান, আগামী ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হবে।তিনি আরও বলেন, ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং ওই দিনের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়া ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ আন্দোলন স্মরণে সেখানে একটি সমাবেশের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইশরাক হোসেন বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েক দিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। ওই প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সেখানে অন্তত ৮০ জন শহিদ হন। তাদের স্মরণে ওই এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।