• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ০১:৩৭:২৬ (20-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

২০৩০ সালের মধ্যে এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশকে একক রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) বৃহৎ রেলওয়ে প্রকল্প। ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমানকে সংযুক্ত করে প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি দ্রুততর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধু পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে নতুন যুগের সূচনা করবে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও ইউএই হয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রেল নেটওয়ার্ক। এতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও দ্রুত হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো রেলপথ চালু করা।কুয়েত অংশে শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে দেশটি। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে ইউএই সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণ দ্রুত শুরু হবে।প্রকল্পটি চালু হলে ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কুয়েত সিটি থেকে রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও হবে আরও দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল।বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সমুদ্রপথে সম্ভাব্য সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সূত্র: আল জাজিরা