রাণীশংকৈলে পিআইও’র ওপর হামলা মামলায় প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশীদ মামুনকে দিনাজপুরের সুইহারি এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।১১ এপ্রিল শনিবার সকালে তাকে ঠাকুরগাঁও কারাগারে প্রেরণ করা হয়।এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল রাতে পিআইও নুরনবী সরকার অফিস কক্ষে জরুরি দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় অতর্কিতভাবে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার অফিসে ঢুকে তাকে ও অফিস দপ্তরি আইয়ুব আলীকে বেধড়ক মারধর করে এবং অফিস তছনছ করে।ঘটনার পর রাত ১টায় পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সোহরাব আলী, সম্পাদক জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করেন।থানা পুলিশ জানায়—মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছে।দপ্তরি আইয়ুব আলী বলেন, “স্যারকে বেধড়ক মারধর করেছে। আমাকে মাথায় ও গালে আঘাত করে। আমি অসুস্থ মানুষ—এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”পিআইও নুরনবী সরকার বলেন, “মামুন বিভিন্ন সময় ভাগবাটোয়ারা দাবি করতেন। না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করে। সে আমার শার্টের কলার ধরে, জাফর ও সোহরাব মারধর করে এবং অফিস তছনছ করে।”অন্যদিকে মামুনুর রশিদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন—“ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ইউএনও অফিসের সিঁড়িতে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।”এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি উপজেলা সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদবিন নুর আলিফ সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলাকে ‘অপ্রীতিকর ও নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।অফিসার্স ক্লাবও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “ঘটনার মামলাটি তদন্তাধীন। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”