• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৭শে পৌষ ১৪৩২ রাত ০৩:৫৫:৫৯ (11-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
নদীর বুকে রাতে জেগে থাকা মানুষ পরশ মাঝি

নদীর বুকে রাতে জেগে থাকা মানুষ পরশ মাঝি

গাজীপুর (উত্তর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীর বুক চিড়ে প্রবাহিত বানার নদী। দিনের আলো মিলিয়ে গেলে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখনও নদীর বুকে নৌকা ভাসিয়ে রাত জেগে থাকেন একজন মানুষ। তিনি শ্রী পরশ মাঝি। তীব্র শীত কিংবা ঝড় বৃষ্টি কখনও রাতে ঘরে থাকেননি মাঝি পরশ।গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কুড়িযাদী খেয়াঘাট সংলগ্ন জীর্ণ ঘরের বাসিন্দা তিনি। সংসার জীবনে তার সন্তান নেই, স্ত্রীকে নিয়েই তার অভাবের সংসার। অন্য এলাকার খেয়াঘাট রাতের বেলায় বন্ধ হয়ে গেলেও পরশ মাঝির ছোঁয়ায় বরমী খেয়াঘাটে প্রাণ থাকে। দিনের মাঝিরা নৌকা বন্ধ করে চলে গেলে পরশ তার বৈঠা আর নৌকা নিয়ে বের হয়ে আসেন। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত শ্রীপুরের বরমী খেয়াঘাট থেকে কুড়িয়াদী খেয়াঘাট পর্যন্ত যাত্রী পার করাই তার প্রতিদিনের কাজ। এভাবেই টানা ৫০ বছর ধরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভরসা হয়ে আছেন তিনি।আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে এখন যাত্রী নেই বললেই চলে। তবে মাস শেষে গড়ে আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। অবাক হওয়ার বিষয়, রাতের যাত্রীদের কাছ থেকে কখনো নির্দিষ্ট ভাড়া দাবি করেন না তিনি। খুশি হয়ে যে যা দেয়, তাই নেন। কেউ কিছু না দিলেও মুখে অভিযোগ নেই। এভাবেই ভালোবাসার পরশ বিলিয়ে আসছেন তিনি।নির্জন রাতে নদীতে নৌকা চালাতে চালাতে গান করেন পরশ মাঝি। তার কণ্ঠের সেই গান শুনতে আশপাশের অনেকেই অনেক সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। কারও কাছে তা শুধু বিনোদন নয়, গভীর রাতের ক্লান্তি ভুলে থাকার একমাত্র সঙ্গী।পরশ বলেন, শুধু মানুষের উপকারের জন্য নিজের রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়েছি। রাতের বেলায় যাত্রী হয় খুব কম। এমন রাতও যায় বিনে পয়সায় ঘরে ফিরতে হয়। অভাব আর দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে সংসার চালাতে হলেও কেউ তার দিকে ফিরেও তাকায় না। এর পরও রাত শেষে মানুষের উপকার করার আনন্দ নিয়েই ঘরে ফিরি।স্থানীয়রা বলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও বানার নদীর এই পারাপারে পরশ মাঝির অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় মানুষের সেবায় কাটালেও তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।