• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৯শে পৌষ ১৪৩২ রাত ১২:৩২:১৬ (03-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
সিরাজ শিকদারের মতো ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারও যেন ঝুলে না যায়: নাঈম আহমাদ

সিরাজ শিকদারের মতো ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারও যেন ঝুলে না যায়: নাঈম আহমাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ বলেছেন, ভারতে পালাতক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন তার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে অসংখ্য খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তেমনি তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও তার বাকশালী শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য অসংখ্য গুম, খুন ও ক্রসফায়ারে যুক্ত ছিলেন। বিদেশে বসে তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যে সমস্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, তা দেখেই বোঝা যায় তিনিও খুনের নেশায় মত্ত।২ জানুয়ারি শুক্রবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরাজ শিকদারের হত্যা দিবস উপলক্ষে “সিরাজ শিকদার: রাষ্ট্র, ভিন্নমত ও হত্যার রাজনীতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।নাঈম আহমাদ বলেন, ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সর্বহারা পার্টির নেতা বিপ্লবী সিরাজ শিকদার শেখ মুজিব সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে প্রথম আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং প্রথম ‘ক্রসফায়ার’। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র জনতাকে হত্যা করে শেখ হাসিনা যেমন ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি, তেমনি সিরাজ শিকদারের হত্যার পরও শেখ মুজিবুর রহমান বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি।তিনি আরও বলেন, শেখ পরিবারের ক্ষমতায় টিকে থাকার দুটি প্রধান অবলম্বন ছিল। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ভিন্নমতকে দমন করা। দ্বিতীয়ত, দিল্লির সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে বাংলাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যেভাবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, শেখ পরিবারের অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।নাঈম আহমাদ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে আমরা শেখ পরিবার মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশকে এখন ক্রমশ সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগ যেন দেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ না পায়। বিভিন্ন দলের ব্যানারে এবং স্বতন্ত্রভাবে অনেক আওয়ামী সন্ত্রাসী আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা করছে; এদের প্রতিহত করতে হবে।তিনি আরও বলেন, দেশে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সিরাজ শিকদারের হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন কোনো সরকার করেনি, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচারও যেন ঝুলে না যায়, সেদিকে দেশপ্রেমিক জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।আপ বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সিরাজ শিকদার ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী অবস্থান নেওয়ায় শেখ মুজিবের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং শেখ মুজিবের নির্দেশে তিনি হত্যার শিকার হন। নির্মম পরিহাস হলো—দিল্লি শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবকেও রক্ষা করেনি; তিনিও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা গুম-খুনমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ ও তৌসিব মাহমুদ সোহান, প্রচার ও জনসংযোগ কমিটির সদস্য মো. ইমরান হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক মোস্তফা শাহরিয়ার, চাঁদপুর জেলার আহ্বায়ক মো. শাহাদাৎ হোসাইন, শ্রমিক উইংয়ের সংগঠক রাফিম হাসনাত হিজবু, যুব উইংয়ের সংগঠক নূরে আলম তোহা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।