ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালী বিভাগের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে: জামায়াত আমির
নোয়াখালী প্রতিনিধি: ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি নোয়াখালী বিভাগ গঠনসহ অন্যান্য ন্যায্য দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।৩০ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নোয়াখালীর অনেকগুলো ন্যায্য দাবি রয়েছে। নোয়াখালীবাসী বিভাগ চায়, সিটি কর্পোরেশন চায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের ভিত্তিতে আপনাদের এই প্রাণের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’জনসভায় তিনি নোয়াখালীর উন্নয়নে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে রয়েছে- নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন, হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ।সুবর্ণচরের এক নির্যাতিতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে যাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল, সেই দুঃখিনী মায়ের সম্মানে আমরা নির্বাচিত হলে সুবর্ণচরে পৌরসভা গঠন করব।’যুব সমাজ ও বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, বরং দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ১১ দলের অধিকাংশ প্রার্থীর বয়স ৪৫ বছরের নিচে, যা প্রমাণ করে আগামীর বাংলাদেশ হবে যুব সমাজের বাংলাদেশ।’সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পে-কমিশনের মাধ্যমে বেতন-ভাতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে কাউকে টেবিলের নিচে হাত বাড়াতে না হয়। এরপরও কেউ দুর্নীতির পথ বেছে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকুন, নইলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’নির্বাচন ও প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ দুটি ভোট হবে। প্রথমটি সংস্কার ও আজাদীর পক্ষে, আর দ্বিতীয়টি হবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।জনসভায় তিনি নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনের মাওলানা বুরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. ইসহাক খন্দকার ও নোয়াখালী-৫ আসনের বেলায়েত হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নোয়াখালী-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।