তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বই লিখলেন আসাদুল হাবিব দুলু
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের হাহাকার, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের কান্না এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস এবার স্থান পেলো বইয়ের পাতায়। তিস্তা নদীপাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা ও অধিকার আদায়ের লড়াই তুলে ধরে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিস্তা বাঁচাই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।৮ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে লালমনিরহাট জেলার মিশন মোড় এলাকার হামারবাড়ি মিলনায়তনে গ্রন্থটি উপলক্ষে এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়লা হাবিব। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময়কালে গ্রন্থের রচয়িতা আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, হাহাকার এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই বইটি শুধু একটি বই নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য তিস্তাপাড়ের মানুষের বেদনা ও লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।’তিনি আরও বলেন, শৈশবে যে প্রমত্তা তিস্তা নদী তিনি দেখেছেন, সময়ের ব্যবধানে সেই নদী আজ তার বিধ্বংসী রূপে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। একসময় গোয়ালভরা গরু ও পুকুরভরা মাছের যে জনপদ ছিল তিস্তাপাড়ে, সেখানে এখন কেবল অভাব, অনিশ্চয়তা ও হাহাকার বিরাজ করছে।আসাদুল হাবিব দুলু জানান, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষকে সংগঠিত করে তিস্তা রক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের আবেগ, স্মৃতি ও প্রতিটি ধাপ এই গ্রন্থে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তিস্তাপাড়ের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস জানতে পারে।তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ লাঘবে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন বর্তমানে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে।মতবিনিময় শেষে তিনি গ্রন্থ প্রকাশে সহযোগিতায় অন্যপ্রকাশ-কে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বই প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ভাতিজা আনোয়ারুল ও বাসার সুমনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।অনুষ্ঠান শেষে আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ গ্রন্থটি উপহার হিসেবে তুলে দেন।