• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২২শে আষাঢ় ১৪৩৩ বিকাল ০৪:২৯:৫৪ (06-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
২৯০ কিমি বেগে গুয়ামে আঘাত হানল সুপার টাইফুন ‘বাভি’

২৯০ কিমি বেগে গুয়ামে আঘাত হানল সুপার টাইফুন ‘বাভি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের তীব্র বাতাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝড়টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটির বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে।এনডব্লিউএস সতর্ক করে জানিয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সুপার টাইফুন, যা ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।ঝড় আঘাত হানার আগেই বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এনডব্লিউএস জানিয়েছে, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে সরাসরি আঘাত হেনেছে ‘বাভি’। দ্বীপটি গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।রোটা মেয়র কার্যালয় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসাত্মক বাতাস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। মেয়র কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, প্রবল বাতাস ও বন্যার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে এবং অনেক বাসিন্দা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।এদিকে, রোটার উত্তরে সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট।তিনি বলেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। ওই ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।এনডব্লিউএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের আগে পর্যন্ত টাইফুনটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই। মধ্যরাতের পর এটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে।প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের আবাসস্থল গুয়ামে পাঁচটি স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির স্থায়ী বাতাস থাকলে কোনো টাইফুনকে সুপার টাইফুন বলা হয়। এনডব্লিউএসের মতে, এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।