• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩ বিকাল ০৫:২৩:০৪ (01-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
ঘোড়ার গাড়ি ও লাল গালিচায় বাকৃবি অধ্যাপকের ব্যতিক্রমী বিদায়

ঘোড়ার গাড়ি ও লাল গালিচায় বাকৃবি অধ্যাপকের ব্যতিক্রমী বিদায়

বাকৃবি প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। অবসরের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে স্মরণীয় বিদায় জানাতে লাল গালিচা বিছিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রার আয়োজন করেন তার শিক্ষার্থীরা।১ জুলাই বুধবার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।জানা যায়, ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক আব্দুল বাতেন। ৩০ জুন মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এর আগে প্রতিষ্ঠানটি কৃষি অনুষদের অধীনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হতো। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।অবসরের শেষ দিনে কৃষি অনুষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই শিক্ষক।অধ্যাপক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় জানায়।’তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢোল-বাদ্যসহ উৎসবমুখর পরিবেশে বিদায় অনুষ্ঠান করতে চাইলেও ক্যাম্পাসে চলমান ক্লাসের কথা বিবেচনা করে তিনি তাদের শব্দ না করার অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাসভবনে পৌঁছে দেন। পুরো আয়োজন তার স্ত্রীও বাসার বারান্দা থেকে উপভোগ করেন।তিনি আরও বলেন, বিদায়ের আগে দুপুরে নিজ বিভাগের নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. রেহানা খাতুনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় সহকর্মীরাও আবেগঘন পরিবেশে তাকে বিদায় জানান।অধ্যাপক বাতেনের শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘স্যার শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেননি, আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আয়োজন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’