• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২২শে মাঘ ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:৩৪:২৮ (04-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
গণভোট নিয়ে কি ভাবছেন কুবি শিক্ষার্থীরা!

গণভোট নিয়ে কি ভাবছেন কুবি শিক্ষার্থীরা!

কুবি প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার এজেন্ডার ওপর এই হ্যাঁ/না গণভোটকে শিক্ষার্থীরা দেখছেন রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সরাসরি মতামত জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে।জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কুবি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রত্যাশাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই গণভোটকে অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর একটি গণতান্ত্রিক উপায় হিসেবে দেখছেন।অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ বলেন, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট জরুরি। তার মতে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো প্রস্তাবগুলো ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে এবং একক কর্তৃত্বের সংস্কৃতি রোধ করবে। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি ভোট নয়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের পর যেসব মৌলিক সংস্কার রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে আটকে আছে, গণভোটের মাধ্যমে সেগুলোর নিষ্পত্তি সম্ভব। তিনি বলেন, স্বাধীন পিএসসি, পুলিশ কমিশন ও শক্তিশালী দুদক এসব সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটই হতে পারে গত দেড় বছরের অপেক্ষার অবসান।বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, সংবিধান পরিবর্তনের অপসংস্কৃতি ও মৌলিক অধিকার হরণের অভিজ্ঞতা থেকেই গণভোটের প্রয়োজনীয়তা এসেছে। তার ভাষায়, ‘এই গণভোট হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার একটি চূড়ান্ত ধাপ।’ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজিব বলেন, ২০২৬ সালের গণভোট একটি উন্নত ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, ইন্টারনেট বন্ধের নিষেধাজ্ঞা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সংখ্যালঘু ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং বড় সিদ্ধান্তে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার সাথি বলেন, শুধু ভোট নয়, ভোটের আগে মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা জরুরি। তার মতে, একটি স্বচ্ছ গণভোটই ভবিষ্যতের যেকোনো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত রুখে দেওয়ার গণতান্ত্রিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘জনগণের সম্মতিতে নেওয়া সংস্কারই টেকসই ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে।’