• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৭ই আষাঢ় ১৪৩৩ বিকাল ০৩:২৫:১০ (01-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে কাজু বাদামের বাণিজ্যিক চাষ

টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে কাজু বাদামের বাণিজ্যিক চাষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি লাল মাটিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদাম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা গোলাপি রঙের ফুল ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে কাজুবাদামের ফলে। ফুল থেকে ফলে পরিণত হওয়ার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব শিল্পকর্ম। দৃষ্টিনন্দন এই সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের।অনুকূল পরিবেশের কারণে এই অঞ্চলে কাজু বাদাম আবাদকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।মধুপুর গড়াঞ্চলের লাল ও অম্লীয় মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কাজু বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। এই মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং অ্যালুমিনিয়াম রয়েছে, যা কাজু বাদাম গাছের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার উঁচু জমি হওয়ায় সেখানে পানি জমে থাকে না, যা কাজু বাদাম চাষের প্রধান শর্ত।কৃষক হানিফ জানান, কৃষি বিভাগ থেকে কাজু বাদামের চারা সার বীজ সহযোগিতার মাধ্যমে চাষ শুরু করে ছিলেন তিনি। দুই বছরের মধ্যে ফল ধরেছে। আশা করছেন, এটি লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, কাজু বাদাম একটি উচ্চমূল্যের ফসল। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। টাঙ্গাইলে কাজু বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। একবার চারা রোপণ করলে দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাজু বাদাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে মধুপুর ও পার্বত্য জেলাগুলোতে যদি কাজু বাদামের সম্প্রসারণ ঘটানো যায়, তবে তা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে পাহাড়ি এলাকাগুলো যাতে কাজুবাদাম চাষে আওতায় আনতে পারি, আমরা সেইভাবে কাজ করে যাচ্ছি।