• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১৮ই বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ১১:২৭:৩৪ (01-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

প্রতিবারই বিএনপি সরকার শ্রমজীবীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করে: মাহদী আমিন

১ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:৫৭:৪৮

প্রতিবারই বিএনপি সরকার শ্রমজীবীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন, প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

১ মে শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, নজরুল ইসলাম খান এবং আরিফুল হক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি অতিথিবৃন্দ।

Ad
Ad

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন, প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম শ্রমঘন খাত তথা পোশাক শিল্প আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

Ad


তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যিনি বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্রম অধিকারের পথিকৃৎ নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী যিনি বারবার গণমানুষের কাণ্ডারি হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন সেই নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, মঞ্চে উপবিষ্ট ও সামনে উপস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ দেশি-বিদেশি অতিথিবৃন্দ, শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পোদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার— শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।

‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’: মহান ‘মে দিবস’। মে দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য: 'সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। এই প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে ধারণ করেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস’।

‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের প্রতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে দেশে-বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের সকল শ্রমজীবী ভাই-বোন, যারা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এবং দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

১৮৮৬ সালের মে মাসে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হ্যা-মার্কেট অ্যাফেয়ার-এ যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, এবং সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, শ্রমজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, এগুলো একটি দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রাধান্য ঠিক তাই। আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, শ্রমিকের দু’টি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তিনি গ্রহণ করেছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টি, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন ভিত্তি দিয়েছে, যা আজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন, প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, শ্রমিক পরিবারের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম শ্রমঘন খাত তথা পোশাক শিল্প আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে এসব উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিটি সরকারের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, এগুলো আজও তারেক রহমানের সরকারের নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপে প্রাধান্য পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তার দেখানো পথেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী কর্মদিবসে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তিনি যে উদার, বাস্তবসম্মত ও রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ এবং দেশের সার্বভৌমত্বই তার কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আদর্শিক অবস্থানের সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্য যেমন ঐতিহাসিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার প্রশ্নে প্রযোজ্য, তেমনি বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত।

তবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, জনগণের জীবনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান করা এবং একটি স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। যে গতিশীল ও কার্যকর সংসদীয় অধিবেশন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা নিঃসন্দেহে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

রাজনৈতিক ভিন্নতা ও আদর্শিক অবস্থানকে পাশে রেখে দেশকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার যে রাজনীতি, দেশ ও জনগণের কল্যাণের যে রাষ্ট্রনীতি, সেটিই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দার্শনিক ভিত্তি। মহান সংসদের প্রথম অধিবেশনে যে প্রাণচাঞ্চল্য, জনগণের সমস্যা নিয়ে যে গভীর আলোচনা, এবং মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে যে সম্মিলিত অবস্থান আমরা দেখেছি, তা জনগণের ক্ষমতায়নেরই প্রতীক। আগামী দিনগুলোতেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই ইতিবাচক ধারা ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, এটি বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি।

এরই ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন সুসংহত হবে, তেমনি যুবসমাজের ক্ষমতায়নও আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি, শ্রমিকদের ক্ষমতায়নেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি শ্রমিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নই আগামী বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে, ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। আপনাদের সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ







দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা
দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা
১ মে ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩১:০৭





Follow Us