আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ লক্ষ্যে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল জরুরি ভিত্তিতে তেহরানে পৌঁছেছে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যা পরবর্তীতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৩০ দিনের আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আপাতত স্থগিত থাকতে পারে।
এতদিন এই সংকটে মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান ও পাকিস্তান। তবে এবার কাতারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আরোপ করতে পারবে না। তিনি জানান, এ বিষয়ে পাকিস্তানই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরান ইতোমধ্যে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) গঠন করেছে, যার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।
বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পিজিএসএ-এর সঙ্গে যোগাযোগ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান বলছে, তারা আপাতত পরমাণু কর্মসূচি নয়, বরং স্থায়ীভাবে শত্রুতা অবসান ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চায়। একইসঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে শক্তি প্রয়োগ না করার নিশ্চয়তাও চায় তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available