আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কার্গো জাহাজ জব্দ করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্মফন দেখা গেছে।
২০ এপ্রিল সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.৩ ডলারে পৌঁছেছে।


তেলের দাম এমন হু হু করে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে তেলের বাজারে বড় পতনের আভাস মিলেছিল। সেদিন তেলের দাম এক লাফে ১০ ডলার কমে ৮৮ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু পরদিনই মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে তেহরান পুনরায় ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয়।

ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি জাহাজে গুলিবর্ষণ ও সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইরান এই ঘটনাকে সমুদ্রপথে ডাকাতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের প্রস্তাবিত শর্ত মেনে না নেয় তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনার কারণে গত রবিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। যা বর্তমান সংকটে এই জলপথের ইতিহাসে অন্যতম শান্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়াসহ বিশ্ব শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বাজার বিশ্লেষক থমাস ম্যাথিউস জানিয়েছেন, ইরানের অবস্থানের এই নাটকীয় পরিবর্তন বাজারের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো একটি সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বুক বেঁধে আছেন। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনএন
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available