আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে ক্রমেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বাড়ছে, একই সঙ্গে মিত্রদের কাছ থেকেও ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থল পর্যায়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান এড়িয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।


ক্ষমতায় আসার সময় অপ্রয়োজনীয় সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ট্রাম্প, যার সুস্পষ্ট কোনো ‘এক্সিট প্ল্যান’ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং উত্তরাধিকার (লিগ্যাসি) উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেই ইরান যুদ্ধের একটি ফাঁদ তৈরি করেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।’
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর বিপরীতে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। সম্প্রতি দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ন্যাটো মিত্রদের অনীহা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ন্যাটো–র সদস্যরা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় সরাসরি সম্পৃক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গেও মতপার্থক্য সামনে আসছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না, যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির এই পর্যায়ে এসে ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। সামরিক অভিযান সীমিত করবেন, নাকি আরও বিস্তৃত করবেন সে সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করাই ছিল বড় ভুল। বিশেষ করে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি আগাম মূল্যায়নে ঘাটতি ছিল বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available