নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহবাগে নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীরা।
২৬ এপ্রিল রোববার সকাল থেকে দিনভর জাতীয় জাদুঘর এর সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলতে দেখা গেছে।


২৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি সড়কের ওপর নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা শাহবাগে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন।

এ সময় আন্দোলনকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল ‘প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই’, ‘শ্রেণিকক্ষে যেতে চাই, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায়’, ‘দেরির বোঝা বইব না, নিয়োগ ছাড়া ফিরব না’ ইত্যাদি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচিতে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। মাথায় ছাতা নিয়ে দলে দলে কর্মসূচিতে যোগ দেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহবাগে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তবে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি তারা।
তাদের অভিযোগ, নিয়োগের আশায় অনেকেই আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ ঝুলে থাকায় পরিবারসহ আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
প্রার্থীরা আরও জানান, গত ১ মার্চের মধ্যে সব ধরনের সনদ যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও নিয়োগপত্র না দেওয়াকে তারা প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সামনে সংবাদ সম্মেলন করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা আড়াই মাস আগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, কিন্তু এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, এমনকি কোনো স্পষ্ট তথ্যও জানানো হয়নি। তাদের দাবি, নিয়োগপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available