বজ্রপাতের সময় সচেতন থাকলেই মিলবে সুরক্ষা
লাইফস্টাইল ডেস্ক: আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ জমে, বিদ্যুৎ চমকায়, সঙ্গে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ এমন পরিস্থিতি আমাদের দেশে খুবই পরিচিত। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বজ্রঝড় যেন নিত্যসঙ্গী। তবে এই প্রাকৃতিক ঘটনা যতটা স্বাভাবিক, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও। একটু অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৩৮ শতাংশ ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। বৈশাখ মাসে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে। আবার জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য হারে বজ্রপাত হলেও তা সাধারণ বজ্রঝড় হিসেবে পরিচিত।কেন বাড়ছে ঝুঁকি?বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় অবস্থানই বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। কৃষক, জেলে কিংবা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি।বজ্রপাতের সময় যেভাবে নিরাপদ থাকবেনবজ্রঝড়ের সময় কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।১. ঝড়ের আভাস পেলেই দ্রুত দালান বা কংক্রিটের নিরাপদ আশ্রয়ে যান২. ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা ও বারান্দা থেকে দূরে থাকুন৩. মোবাইল, টিভি, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৪. উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন৫. বাইরে থাকলে মাটিতে শুয়ে না পড়ে নিচু হয়ে বসে থাকুন৬. নৌকায় থাকলে দ্রুত ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন৭. ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার না করাই ভালো৮. একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকলে দূরত্ব বজায় রাখুনদুর্ঘটনা ঘটলে কী করবেন?বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ থামানো সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা ও সতর্ক আচরণই পারে ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দিতে। মনে রাখবেন, বজ্রপাতের সময় সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।