নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিল না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রাসেল।


এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আগামী ১ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২৪ বার পেছানো হলো।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্তভার ছিল সংশ্লিষ্ট থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় হাইকোর্ট বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ এবং মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
এ মামলার আসামিরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের বন্ধু তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক হয়েছেন। অন্য আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available