নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা (Status-quo) অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (গাসিক) প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

১৮ জানুয়ারি রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াদনান রফিক জমির মালিকের আমমোক্তার (Constituted Attorney) মো. মাসুদুর রহমানের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশটি পাঠান।


নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন-গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ সোহেল হাসান এবং জোন-৫ এর জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫৬ সাল থেকে নোটিশদাতা ও তার পূর্বসূরিরা সংশ্লিষ্ট জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ২০২৩ সালে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীনভাবে ওই জমিতে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী হাইকোর্টে রিট (রিট পিটিশন নং ২৮৪১/২০২৩) দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট বিবাদমান সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা (Status-quo) বজায় রাখার আদেশ দেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশে সিটি কর্পোরেশন যে জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করে, তা ছিল অসম্পূর্ণ এবং আপত্তিজনক। রিটকারী পক্ষ হলফনামার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করেন। এরপর গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানি শেষে আদালত রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত আদেন না দিয়ে আবেদনটি নথির সঙ্গে রাখার আদেশ দেন এবং কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।
পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট অন্য একটি বেঞ্চ স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও ৬ মাসের জন্য বৃদ্ধি করেন।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন আকস্মিকভাবে ওই জমিতে প্রবেশ করে এবং নির্মাণকাজ শুরু করে, যা আদালতের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। নোটিশে আরও বলা হয়, আরএস মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ '৬০৩৬' দাগের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং এটি রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত নয়।
নোটিশে বিবাদীদের নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই জমিতে চলমান সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ করা এবং নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available