• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২০শে আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ১২:৫৩:৫৮ (04-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:

খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় তেহরানের পথে পথে মানুষের মিছিল

৪ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০:১৩:৩০

খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় তেহরানের পথে পথে মানুষের মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। ৪ জুলাই শনিবার সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হাজার হাজার ভক্ত ও অনুরাগী সেখানে ভিড় করেছেন। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও দেশের অন্যান্য শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মোসাল্লার দিকে যাওয়ার সড়কগুলো এবং নির্ধারিত স্থানগুলোতে জড়ো হয়েছেন। তারা শুরু থেকেই এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার হাজার ভক্ত সেখানে প্রবেশ করেছেন। রাজধানীজুড়ে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিশাল কমপ্লেক্সটির প্রধান প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার থেকে এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

খামেনির দাফনের জন্য প্রথমে চলতি বছরের মার্চ মাসে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরে তা স্থগিত করা হয়। যুদ্ধের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি, বাসভবনে বোমা হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে খামেনি নিহত হন।

সাত দিনব্যাপী দাফনের আনুষ্ঠানিকতা

খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পণ্ডিতরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

৪ ও ৫ জুলাই

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মরদেহসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহৎ প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৬ ও ৭ জুলাই

৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।

৮ জুলাই

ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

নজফে অবস্থিত ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি রয়েছে।

কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তাঁর সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

৯ জুলাই

এরপর মরদেহটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত।

শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন

সূত্র: মেহের নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




মিসরের ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ
মিসরের ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ
৪ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:১০:০৫







Follow Us