আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২৮ জুন রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭০ দশমিক ৯০ ডলারে ওঠে।
এর আগে শুক্রবার সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল তেলের দাম। সেদিন ব্রেন্টের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৯ ডলারের কাছাকাছি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু হবে—এমন প্রত্যাশায় গত সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই আশাবাদে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেই তেলের বাজার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সময় লাগবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের মতো পূর্ণ সক্ষমতায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতেও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তাদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চলতি বছরের মধ্যেও পুরোপুরি যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে।
তবে বর্তমান মূল্য এখনও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছানো চার বছরের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। দেশটিতে রোববার সাধারণ মানের পেট্রলের গড় খুচরা মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৮৭ ডলার, যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available