• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ১২:১৮:২২ (28-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা

২৮ জুন ২০২৬ সকাল ০৮:৩৫:০০

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা
“ফাইল ছবি”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

২৮ জুন রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ড্রোন হামলা চালায়। এর সরাসরি জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা অনুসরণ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে দেশটির সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা যে অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, প্রয়োজনে তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করব।”

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে এই হামলার দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের পোর্ট সালমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, “শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।”

এছাড়া আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us