আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন। প্রায় এক দশক পর এ সফরে এসে তিনি পেয়েছেন লাল গালিচা সংবর্ধনা।
১৩ মে বুধবার বিশেষ উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে করে বেইজিংয়ে পৌঁছান ট্রাম্প। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।


এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা উড়িয়ে ‘ওয়েলকাম, ওয়েলকাম’ স্লোগান দিতে দেখা যায় উপস্থিত জনতাকে।

সফরকালে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ইলন মাস্ক, টিম কুক এবং ল্যারি ফিঙ্কসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী।
মূলত গত মার্চে এ সফর হওয়ার কথা ছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার ঘটনায় সফরটি পিছিয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ট্রাম্প-শি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার শি জিনপিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন নেই।
এ ছাড়া বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শুল্কনীতি এবং তাইওয়ান ইস্যুও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি চীনকে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকা প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীরাও এ বিষয়ে আগ্রহী।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সফরে ডজনখানেকের বেশি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের সম্মানে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মানে বিশেষ ভোজসভাসহ একাধিক কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সফরে ট্রাম্পের ২০১৭ সালের চীন সফরের স্মৃতিও ফিরে আসতে পারে। সে সময়ও তাকে বিশেষ মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। এমনকি নিষিদ্ধ নগরী ঝংনানহাই সংলগ্ন এলাকায় তার জন্য বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য করা হয়নি।
এবারও ট্রাম্পের সম্মানে ঝংনানহাইয়ের অভ্যন্তরে বিশেষ নৈশভোজ আয়োজন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সফরের আলোচ্যসূচি হবে জটিল ও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শুল্কনীতির পাশাপাশি তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যুতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এক দশক পর দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বেইজিং সফরে গিয়ে ট্রাম্প এমন এক চীনের মুখোমুখি হচ্ছেন, যে দেশ এখন আগের চেয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী।
তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা শি জিনপিং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ‘নতুন উৎপাদন শক্তি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি চীনকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
চীনের উত্তরাঞ্চলে সৌর ও বায়ুশক্তিভিত্তিক অবকাঠামোর বিস্তার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে স্বয়ংক্রিয় কারখানা ও সরবরাহব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রূপ দেওয়া হচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available