আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মুহূর্তে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ। পর্দার আড়ালে চলা তৎপরতার বিস্তারিত উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।
সংকটের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় একটি সভ্যতা এক রাতের মধ্যে মুছে ফেলার হুমকিও দেন। ঠিক সেই সময়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয় পাকিস্তান।


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘দৃঢ়ভাবে ও জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং পোস্টে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের ট্যাগ করেন।

বাহ্যিকভাবে এটি শেষ মুহূর্তের উদ্যোগ বলে মনে হলেও বাস্তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফের পোস্ট প্রকাশের আগেই হোয়াইট হাউস সেটি পর্যালোচনা ও অনুমোদন করেছিল। এতে বোঝা যায়, প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল আড়ালের কূটনীতি।
এই ঘটনাটি আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে—একদিকে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরানকে হুমকি দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস একই সময়ে উত্তেজনা প্রশমনের পথও খুঁজছিল।
শাহবাজ শরিফের পোস্টের শিরোনামে ‘ড্রাফট— এক্স-এ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা’ উল্লেখ থাকায় সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কেউ কেউ ধারণা করেন, বার্তাটি ট্রাম্প নিজেই লিখেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এই দাবি নাকচ করেন। এ বিষয়ে পাকিস্তান দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফল দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available