আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে— এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে চলমান বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তেহরান থেকে বিবিসির একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী এবং অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব ধরনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত’। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্পসহ বিভিন্ন পথ বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। একই সুরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সহিংসতা চালানোর অভিযোগ করেন।
সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সীমিত করে দেওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সরাসরি ইরান থেকে তথ্য সংগ্রহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর হওয়া গণআন্দোলনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available