আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার তেল খাত যেন বিশৃঙ্খলার দিকে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির তেল উত্তোলন, বিপণনসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।’


তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠন বা ‘ঢেলে সাজানোর’ উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তেল খাত সংস্কারের প্রথম ধাপ। এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং সরকারের অনুমোদিত সংস্থা বা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
রুবিও বলেন, ‘সংস্কারের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। তখন মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা কোম্পানিকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্যবিষয়ক সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্যানুযায়ী, দেশটির খনিতে অন্তত ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় এর উত্তোলন ও পরিশোধন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। তবে এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উচ্চমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্পকারখানা ও ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available