• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৪শে মাঘ ১৪৩২ রাত ০৯:৫৫:০৩ (06-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:

ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ০৭:২২:৪৯

ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওষুধ পণ্য, বড় গাড়ি বা ট্রাক এবং গৃহ সংস্কারের সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

Ad

২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘোষণা ট্রাম্পের কঠোরতম বাণিজ্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। নতুন শুল্কের এ ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন তার সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে।

Ad
Ad

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা না গড়ে তুললে, ওই কোম্পানির ওষুধ আমদানিতে শতভাগ শুল্ক আরোপিত হবে।

এছাড়া সব ধরনের ভারী যানবাহন বা ট্রাকে ২৫ শতাংশ এবং রান্নাঘর ও বাথরুমের ক্যাবিনেটে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের দাবি, বাইরের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য এসে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে, যা আমেরিকার উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বৈদেশিক আমদানি থেকে স্থানীয় উৎপাদকদের রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন।

নতুন করে আর শুল্ক আরোপ না করতে হোয়াইট হাউজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও পিছপা হয়নি প্রশাসন।

ভারী ট্রাকের ওপর শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতাদের ‘অন্যায্য বিদেশি প্রতিযোগিতা’ থেকে রক্ষা করা, এমন দাবি ট্রাম্পের।

তিনি উল্লেখ করেন, পিটারবিল্ট ও ম্যাক ট্রাকস্-এর মতো কোম্পানিগুলো এই শুল্কের ফলে উপকৃত হবে। এ কোম্পানিগুলো বাইরের চাপ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

রান্নাঘর ও বাথরুমের ক্যাবিনেটসহ কিছু আসবাবপত্রে নতুন শুল্কের কারণ হিসেবেও একই ধরনের বক্তব্য ট্রাম্পের।

আগামী সপ্তাহ থেকে সোফা ও অন্যান্য গদিযুক্ত আসবাবপত্রে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। নতুন ঘোষিত এসব শুল্ক ট্রাম্পের শুল্ক নীতির আরও সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত আগস্টে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা শুরু হয়। উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ও উৎপাদন বাড়ানো। এছাড়া, এর অন্যান্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর প্রভাব ফেলেছে ট্রাম্পের এ নীতি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স হোয়াইট হাউসকে নতুন শুল্ক আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, ট্রাক উৎপাদনে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্রাংশ প্রধানত মেক্সিকো, কানাডা, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং জাপান থেকে আসে এবং এ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।

চেম্বার অব কমার্স আরও জানায়, মাঝারি ও ভারী ট্রাকের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সবচেয়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো ও কানাডা। গত বছর এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এই দুই দেশ থেকেই এসেছে। এ যন্ত্রাংশগুলো দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা বাস্তবসম্মত নয়, উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে যে তাতে শিল্পখাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

বিদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে গত এপ্রিল মাসে গোটা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এই ঘোষণাকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক শঙ্কা তৈরি হলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিতও করেছিলেন তিনি।

এর চার মাস পর, বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে হওয়া কয়েকটা গুটিকয়েক চুক্তি প্রকাশ্যে এনে তাকে ‘ধারাবাহিক বিজয়’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে আগে ও পরে, সব ক্ষেত্রেই তিনি একতরফাভাবে অন্যদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন।

ভিন্ন দেশের ওপর ‘ট্যারিফ’ বা শুল্ক আরোপ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জরুরি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে সম্প্রতি রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত।

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করার যুক্তি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন যে তার এ পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন রাজস্ব নীতির সুবিধা মিলবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত হবে, শত শত বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ হবে এবং মার্কিন পণ্য কেনার পরিমাণও বাড়বে।

বাস্তবে তেমনটাই হবে কি না এবং এসব পদক্ষেপের নেতিবাচক পরিণতি দেখা যেতে পারে কি না তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমেরিকায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য হয় তো খুব সীমিত সাফল্যই পাবে। কানাডা এবং ইইউর মতো দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অংশীদাররা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংযোগ তৈরির জন্য বিকল্প খুঁজতে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রকে তারা আর নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে দেখবে না।

বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট অবস্থানের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ওই জায়গায় পৌঁছাতে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ব্যয় করেছে। যদি বর্তমান শুল্ক অর্থনীতির কাঠামোকে আঘাত করে তবে তার তার ফল কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হবে না।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



শৈলকুপায় বিশ্ব মেছোবিড়াল দিবস পালিত
শৈলকুপায় বিশ্ব মেছোবিড়াল দিবস পালিত
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৯:০৯:৪১



নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ৫ জামায়াত নেতাকর্মী আটক
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ৫ জামায়াত নেতাকর্মী আটক
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৬:৪৭



বিএনপির ইশতেহারে যা আছে
বিএনপির ইশতেহারে যা আছে
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৭:৫১



Follow Us