বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: বাবার বাড়ি থেকে লাল শাড়ি পরে বধূবেশে বিদায় নিয়েছিল ১৯ বছরের আদরী। বিয়ের তিন মাসের মাথায় সেই বাবার বাড়িতেই আবার ফিরল সে। তবে এবার সাদা কাফনে মোড়া নিথর দেহ হয়ে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তালশো মাঝপাড়া গ্রামের দিনমজুর ছুমির উদ্দিনের কন্যা আদরীর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


চার বোনের মধ্যে আদরী ছিল তৃতীয়। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন দিনমজুর ছুমির উদ্দিন। আদরীর বিয়ে হয় একই উপজেলার কুজাইল গ্রামের লোকমান এর ছেলে মো. মাহিমের সঙ্গে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুকের কোনো দাবি না থাকলেও বিয়ের পরপরই স্বামী পক্ষ স্বর্ণালংকারের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় ছয় মাস সময় চেয়ে নেন আদরীর বাবা।
এর মধ্যেই আদরীর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামী মাহিম, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন নীরবে সহ্য করে যাচ্ছিল আদরী। পরিবারের কষ্টের কথা ভেবে কাউকে কিছু না বললেও একপর্যায়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় নিজের দুর্দশার কথা বোনের কাছে জানায় সে।
খবর পেয়ে আদরীর পরিবার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়। আদরীর জন্য স্বর্ণালংকার কিনতে পরিবারের শেষ সম্বল বাড়িতে থাকা একটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। আসন্ন কোরবানির ঈদে আদরীর জন্য ঝুমকা কেনার কথা ছিল।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার আগেই যৌতুকের দাবিতে জীবন দিতে হলো আদরীকে। আদরীর পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম বলেন, ‘আদরীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। রিপোর্টের আলোকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available