শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমা খাতুন (১৮) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৮ এপ্রিল বুধবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নিহত সীমা খাতুন উপজেলার ফারুক হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার নয়ন মন্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নয়ন মন্ডল বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের ফলে এর আগেও তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরিবারের সদস্যরা জানান, সীমা খাতুন একাধিকবার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল স্বামী নয়ন মন্ডল ফোনে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার কথাও বলেন বলে অভিযোগ।

এর কিছুক্ষণ পরই সীমা খাতুন বিষপান করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে প্রথমে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহতের ভাই পলাশ বলেন, আমার বোনের স্বামীর অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সে প্রায়ই আমার বোনকে মারধর করত এবং যৌতুকের জন্য চাপ দিত। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। আর্থিক সংকটের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারিনি। বুধবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার বোন মারা যায়।
নিহতের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, আমার মেয়ে খুবই নম্র-ভদ্র ছিল। আমার জামাই সবসময় টাকার জন্য চাপ দিত এবং নির্যাতন করত। গত ২ এপ্রিল সে এক লাখ টাকা দাবি করে। আমার মেয়ে জানায় আমরা গরিব, এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তখন সে বলে টাকা না আনলে যেন আর তার বাড়িতে না যায়, নইলে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলে। এরপরই আমার মেয়ে বিষপান করে।
এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available