খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পাশাপাশি মজবুত অবস্থান রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর। তাদের জয়-পরাজয়ে 'ফ্যাক্টর' হয়ে উঠতে পারেন তাঁতি সম্প্রদায়ের ভোটাররা। এ জন্য অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁতিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে কুমারখালীর ভোটার ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২৭, নারী ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৬ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। খোকসার ১ লাখ ২০ হাজার ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬০ হাজার ২৭৭ ও নারী ৫৯ হাজার ৮৪৯ জন। প্রায় সোয়া চার লাখ ভোটারের মধ্যে সরাসরি তাঁতি সম্প্রদায়ের ভোটার ১৫-২০ হাজার। এর বাইরেও তাঁত-সংশ্লিষ্ট ভোটার আছে আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার।


অতীতে এই আসনে ভাগাভাগি করে জিতেছেন বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এখানে অবস্থান পাকাপোক্ত করে বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার জয় পায় আওয়ামী লীগ। এবার অবস্থা ভিন্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় আগের হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। বিএনপি এবার অভিজ্ঞ নেতা ও দুইবারের এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে প্রার্থী করেছে। তাঁর প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার খাঁন। এর বাইরেও তিনজন প্রার্থী আছেন এই আসনে।
ভোটারদের ভাষ্য, ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের অবস্থান বেশ শক্ত। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। এ আসনে কে জয় পাবেন, নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে তাঁতি ভোট যে প্রভাব ফেলবে, তা অনেকটা নিশ্চিত। দুই উপজেলাতেই তাঁতি ভোটার থাকলেও কুমারখালীতে বেশি।
উপজেলা সদরের তাঁত শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আমরা অবহেলিত। সুতার দাম বেশি, কাপড়ের দাম কম। অন্য শ্রমিকদের হাজিরা বেড়েছে, আমাদের কমেছে। অথচ কোনো নেতা কথা রাখেনি। তাই এমন এমপি চাই, যিনি তাঁত বাঁচাতে ব্যবস্থা নেবেন।'
রহিমা খাতুন নামে একজন তাঁতির ভাষ্য, তারা অর্থ সংকটে আছেন। সরকার থেকে প্রণোদনা দিলে ভাল হতো। অল্প সুদে ঋণ দিলেও তাঁতিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কুমারখালী উপজেলা কমিটির নায়েবে আমির আফজাল হোসেন। তিনি নিজে তাঁতি সম্প্রদায়ের। এ কারণে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। আওয়ামী লীগের সময়ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আফজাল হোসেন।
তিনি বলেন, 'কুমারখালীর তাঁত ধ্বংসের মুখে। আমি এমপি হতে পারলে তাঁতিদের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করব, যাতে তাঁত ও তাঁতিরা আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। আশা করছি, মানুষ এবার আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবে।'
খোকসায় বাড়ি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খানের। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী-বড় ব্যবসায়ী। জেলার সম্পদশালী প্রার্থীদের মধ্যে তিনি একজন। দুই উপজেলায় এবার তিনি দেদারছে টাকা খরচ করছেন বলে জানা গেছে। প্রচার-প্রচারণায়ও তিনি বেশ এগিয়ে। এসব কারণে তাঁকে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে ভোটাররা।
আনোয়ার খান বলেন, 'আল্লাহর রহমতে আমি ভোটের মাঠে কাজ করছি। মানুষের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এলাকার উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। মানুষ এবার ইসলামী দলকে ক্ষমতায় আনবে। এবার ভোটে একমাত্র ইসলামী দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।'
বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর বাড়ি খোকসা। পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি উপজেলায় উন্নয়ন করেন। তাঁর বাবা সৈয়দ মাছউদ রুমীও এমপি ছিলেন। এ কারণে দুই উপজেলাতেই মেহেদী রুমীর জনপ্রিয়তা আছে। মনোনয়ন নিয়ে প্রথম দিকে দলে ত্রিমুখী সংকট থাকলেও এখন নেই। সবপক্ষ এখন তাঁর পক্ষে। তবে জামায়াতের শক্ত অবস্থান থাকায় ভোটের মাঠে লড়াই হতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপির নেতাদের দাবি, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তারা এবার বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, 'বিপুল ভোটে মানুষ আমাকে ফের সংসদে পাঠাবে। আমি দুইবার সংসদ সদস্য ছিলাম। তাঁতিদের জন্য অনেক উন্নয়ন করেছিলাম। এবার জয়ী হলে তাঁতিদের উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করব, ইনশাআল্লাহ।'
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available