রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশের তালগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মইদুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলার শোনশুনি পাড়ার বাসিন্দা। তিনি লিখিত অভিযোগে জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি ও তার ভাইয়েরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ২২টি তালগাছ কেটে বিক্রি করেন। অভিযোগপত্রে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোনশুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর নুরুল ইসলাম মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা একই রাস্তার পাশ থেকে আরও সাতটি তালগাছ কাটেন। এতে মইদুল ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তার খামারের ভেতরে থাকা একটি বরই গাছও জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়।
মইদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং গত ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৫ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম নিজেকে আহত দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি তালগাছ কাটার ঘটনায় নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও তার ভাই রফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম ও সালাহউদ্দীন সরাসরি জড়িত। তারা সরকারি রাস্তার পাশের মোট ২৯টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ প্রকাশ্যে কেটে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। ওই এলাকার জমিজমা সম্পর্কে আমি অবগত নই। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার ভাইয়েরা সেখানে থাকেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
তার ভাই শামসুল আলমও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সরকারি রাস্তার কোনো তালগাছ কাটিনি। নিজেদের জমির আটটি তালগাছ কেটেছি। রাস্তার গাছ কে বা কারা কেটেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রতন বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। যদি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available