• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৫শে পৌষ ১৪৩২ দুপুর ০১:১৪:০৩ (08-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

খালি পড়ে আছে কোটি টাকার ভবন, অফিস চলছে ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভাড়া বাড়িতে

৭ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ১০:৩২:৫৩

খালি পড়ে আছে কোটি টাকার ভবন, অফিস চলছে ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভাড়া বাড়িতে

‎ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়িতে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে ‎সরকারি অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অথচ, সেই ভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভাড়া বাড়িতে গাদাগাদি করে, চরম অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে চলছে ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম।

Ad

দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দলিল লেখক, সাধারণ মানুষ ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

‎ফুলছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার কালিরবাজার এলাকায় নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবনের কাজ বহু আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলেও রহস্যজনক কারণে আজও সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়নি, স্থানান্তর করা হয়নি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ফলে গজারিয়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ।‎

‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাড়া বাড়ির ভেতরে অল্প জায়গায় কাঠের বেঞ্চ ও টেবিল বসিয়ে দলিল লেখকরা হাঁটু ভেঙে, গাদাগাদি করে দলিল লিখছেন। কোথাও ঠিকমতো আলো নেই, নেই বসার পর্যাপ্ত জায়গা। দেখা যায়, খোলা উঠানে ধুলাবালির ওপর বসেই দলিল যাচাই করছেন কেউ কেউ। ছাদের টিনে ফাঁক, দেয়ালে মরিচা, যেকোনো সময় বড়ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে  

Ad
Ad

‎এজলাসের সামনে সকাল থেকে মানুষের ভিড়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ। কারও হাতে জমির কাগজ, কারও চোখে অসহায়ত্ব। অনেকেই শেষ সম্বল নিয়ে এসেছেন জমি বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে কিংবা মৃত্যুর আগে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে। কিন্তু এই ভিড়, অস্বস্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

‎দলিল করতে আসা সেবাপ্রার্থী বৃদ্ধ রহিম উদ্দিন কাঁপা গলায় বলেন, “বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তবুও কী করবো, জমির কাজ না করলে তো চলবে না।”

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান, ‘নতুন ভবন পড়ে আছে, আর আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কাজ করছি। বৃষ্টি হলে কাগজ ভিজে যায়, রোদে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে কাজ করা খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে কালিরবাজারে নির্মিত নতুন ভবনটি পড়ে আছে জনশূন্য অবস্থায়।’

‎সেবা প্রত্যাশী আব্দুস সাত্তার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের সেবার জন্য সরকার যে ভবন বানিয়েছে, তা ব্যবহার না করে ভাড়া বাড়িতে অফিস চালানো অযৌক্তিক। দ্রুত নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে।’

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us